বাংলাদেশ ০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কেন বারবার কুড়িগ্রামে বন্যা হচ্ছে?

  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
  • / 191

 

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ঋতুবৈচিত্র্যের ছয় ঋতুর দেশ। অধিকাংশ সময় বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু বছরে কয়েকবার রাজিবপুর, রৌমারী সহ কুড়িগ্রামের অধিকাংশ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা লক্ষ্য করা যায়। কুড়িগ্রামকে দ্বিখন্ডিত করেছে বহ্মপুত্র নদ। নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়া, ময়লা-আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে যাওয়া, ঘরবাড়ি বা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন অনেকেই। 

এই কারণে মেঘালয় বা আসামে বেশি বৃষ্টিপাত হলেই কুড়িগ্রাম এলাকায় বন্যার তৈরি হচ্ছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। বিশেষ করে ভারতের উজানে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটি আলগা হয়ে নদীতে চলে আসে। ফলে নদীর তলদেশ ভরে যায়। সেখানে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। সেখানে গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। ভারত বিভিন্ন রাজ্য বন্যায় আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, রৌমারী ভাটি অঞ্চলে হওয়ায় সেই সাথে একটি বিস্তৃত করে রেখেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। এ কারণে উজান অঞ্চলের পানি খুব সহজভাবেই ব্রহ্মপুত্রে প্রবাহিত হয়। এতে করে প্রায় সময়গুলোতেই নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে প্লাবিত হয়।

বিশেষ করে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বন্যা দেখা দিলে এ থেকে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম রেহাই পায়না। বিভিন্ন সময় ভারতের অঞ্চলগুলোতে বন্যা দেখা না দিলেও কুড়িগ্রামে বন্যা লক্ষ্য করা যায়। এর প্রধান কারণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল গুলোতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল।

অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেও বন্যার প্রভাব উচ্চতর দেখা দেয়। এক সময় নদীতে নাব্যতা ছিল, সেই সাথে নদী ভাঙ্গন কম ছিল। এতে করে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক ছিল। এতো রাস্তাঘাট ছিল না বা স্থাপনা তৈরি হয়নি। ফলে এখন বন্যার পানি এখন নেমে যেতেও সময় লাগছে। আগে হয়তো জলাভূমি, ডোবা থাকায় অনেক স্থানে বন্যার পানি থেকে যেতে পারতো। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না ।

অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা সহ বিভিন্ন প্রকল্প করা হচ্ছে, ফলে পানি প্রবাহে বাধার তৈরি হচ্ছে। এলাকায় বাড়িঘর তৈরির ফলে পানি আর গ্রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে সাধারণ মানুষ বারবার বন্যার তীব্রতা বেশি অনুভব করছে। এ সব কারণেও আগাম বন্যা হচ্ছে এবং অনেক তীব্র বন্যা হচ্ছে।

এতে নদীর পানি বহনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে বাঁধ না থাকার কারণে উজান অঞ্চলের পানির সঠিক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (মনোযোগ প্রকাশ.কম)//এমজেইড 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কেন বারবার কুড়িগ্রামে বন্যা হচ্ছে?

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

 

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ঋতুবৈচিত্র্যের ছয় ঋতুর দেশ। অধিকাংশ সময় বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু বছরে কয়েকবার রাজিবপুর, রৌমারী সহ কুড়িগ্রামের অধিকাংশ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা লক্ষ্য করা যায়। কুড়িগ্রামকে দ্বিখন্ডিত করেছে বহ্মপুত্র নদ। নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়া, ময়লা-আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে যাওয়া, ঘরবাড়ি বা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন অনেকেই। 

এই কারণে মেঘালয় বা আসামে বেশি বৃষ্টিপাত হলেই কুড়িগ্রাম এলাকায় বন্যার তৈরি হচ্ছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। বিশেষ করে ভারতের উজানে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটি আলগা হয়ে নদীতে চলে আসে। ফলে নদীর তলদেশ ভরে যায়। সেখানে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। সেখানে গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। ভারত বিভিন্ন রাজ্য বন্যায় আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, রৌমারী ভাটি অঞ্চলে হওয়ায় সেই সাথে একটি বিস্তৃত করে রেখেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। এ কারণে উজান অঞ্চলের পানি খুব সহজভাবেই ব্রহ্মপুত্রে প্রবাহিত হয়। এতে করে প্রায় সময়গুলোতেই নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে প্লাবিত হয়।

বিশেষ করে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বন্যা দেখা দিলে এ থেকে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম রেহাই পায়না। বিভিন্ন সময় ভারতের অঞ্চলগুলোতে বন্যা দেখা না দিলেও কুড়িগ্রামে বন্যা লক্ষ্য করা যায়। এর প্রধান কারণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল গুলোতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল।

অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেও বন্যার প্রভাব উচ্চতর দেখা দেয়। এক সময় নদীতে নাব্যতা ছিল, সেই সাথে নদী ভাঙ্গন কম ছিল। এতে করে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক ছিল। এতো রাস্তাঘাট ছিল না বা স্থাপনা তৈরি হয়নি। ফলে এখন বন্যার পানি এখন নেমে যেতেও সময় লাগছে। আগে হয়তো জলাভূমি, ডোবা থাকায় অনেক স্থানে বন্যার পানি থেকে যেতে পারতো। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না ।

অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা সহ বিভিন্ন প্রকল্প করা হচ্ছে, ফলে পানি প্রবাহে বাধার তৈরি হচ্ছে। এলাকায় বাড়িঘর তৈরির ফলে পানি আর গ্রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে সাধারণ মানুষ বারবার বন্যার তীব্রতা বেশি অনুভব করছে। এ সব কারণেও আগাম বন্যা হচ্ছে এবং অনেক তীব্র বন্যা হচ্ছে।

এতে নদীর পানি বহনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে বাঁধ না থাকার কারণে উজান অঞ্চলের পানির সঠিক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (মনোযোগ প্রকাশ.কম)//এমজেইড