একসঙ্গে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি গোপালগঞ্জের সোহাগের
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৫০ পিএম
গোপালগঞ্জে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকার পরও অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমের অফিস সহায়ক সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে। তথ্য গোপন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক পদে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সোহাগ হাওলাদার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে অভিযোগ স্বীকার এবং একসঙ্গে দুটি সরকারি চাকরিতে থাকাটা অন্যায় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ নভেম্বর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগ দেন সোহাগ হাওলাদার। কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী ভূমি অফিস কর্মস্থল হলেও সংযুক্তিতে বর্তমানে তিনি ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে কর্মরত রয়েছেন। গত ২০ জুন ছুটি নিয়ে ৪ জুলাই কাজে যোগ দেন এবং নিয়মিত অফিস করছেন।
তবে সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলেও সিটি করপোরেশনে চাকরির আবেদনে তা গোপন করেছেন সোহাগ। জনবল নিয়োগ পরীক্ষার ফল এবং এ-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে চলতি বছরের ১৩ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পান সোহাগ। ২৭ জনের সঙ্গে পাওয়া নিয়োগ আদেশে তার ক্রমিক নম্বর ৯। ডিএসসিসির তৎকালীন সচিব আকরামুজ্জামান ওই নিয়োগ আদেশে স্বাক্ষর করেন।
২ জুন পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক পদে ডিএসসিসিতে যোগদান করে তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে ৭ জুলাই থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সোহাগ। গত ২৪ জুলাই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবু তাহেরের কাছে পাঠানো এক পত্রে জানানো হয়, সোহাগ পারিবারিক কারণে ৩ দিনের ছুটিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পরে কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ হাওলাদার বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা অন্যায় হয়েছে। সবাই চায় ওপরে উঠতে, আমি সেটাই করেছিলাম। কিন্তু আমার পরিবার চায় না আমি ঢাকায় গিয়ে কাজ করি, তাই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে গত ১৮ আগস্ট স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আবেদন জমা দিয়েছি। ২ মাসের এ চাকরিতে আমি সেখান থেকে ১ টাকাও বেতন নিইনি।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, একসঙ্গে দুটি সরকারি চাকরি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি জানতে পারলাম। ব্যাপারটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, একসঙ্গে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ নেই। যদি এমনটি করে থাকেন, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।