ঘরে বসেই ব্যাংক ঋণ, চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইন ‘ই-লোন’ সেবা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ই-লোন বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা এখন ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা থাকলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।
ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধসহ সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে ব্যাংকগুলো।
ঋণ অনুমোদনের আগে ঋণ তথ্য ব্যুরো প্রতিবেদনও যাচাই করতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম পরিশোধ ফি সম্পর্কে গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই ধাপ ও একাধিক ধাপ যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে মানতে হবে।
প্রতিটি ব্যাংককে ই-লোন চালুর আগে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংকারদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর গ্রাহকরা দ্রুত ঋণ সুবিধা পাবেন। এতে ব্যাংকিং সেবায় সময় ও খরচ কমবে এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।