হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারতে প্রবেশের দাবি নাকচ করল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন আসামির ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মেঘালয় পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।

একই সঙ্গে ‘পূর্তি’ বা ‘সামি’ নামে কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করার তথ্যও অস্বীকার করেছে তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও মেঘালয় মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদি হত্যার অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন—বাংলাদেশ পুলিশের এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, ফয়সাল ও আলমগীর হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পাহাড় এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে ‘পূর্তি’ নামের এক ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করেন এবং ‘সামি’ নামের এক ট্যাক্সিচালক তাদের তুরা শহরে নিয়ে যান।

তবে মেঘালয় মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (ডিজিপি) ইদাশিশা নংরাং এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) ওপি উপাধ্যায় দাবি করেন, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিএসএফ আইজি ওপি উপাধ্যায় বলেন, হালুয়াঘাট সেক্টর দিয়ে এসব ব্যক্তির সীমান্ত পার হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বিএসএফের নজরদারিতেও এমন কোনো ঘটনা ধরা পড়েনি।

হিন্দুস্তান টাইমসকে মেঘালয় পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, ‘পূর্তি’ বা ‘সামি’ নামে কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই এ ধরনের তথ্য প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও করা হয়নি বলে জানানো হয়।

যদিও অভিযোগগুলো নাকচ করা হয়েছে, তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ। তবে এটিকে অভিযোগের সত্যতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970