ভারতে গরু পরিবহনের অভিযোগে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
ভারতে তথাকথিত গোরক্ষকদের হামলায় আরও এক মুসলিম যুবক নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি উড়িষ্যার বালাসোর জেলায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, হামলায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও এখন পর্যন্ত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নিহত যুবকের নাম এসকে মাকান্দার মোহাম্মদ (৩৫)। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে সন্তানদের স্থানীয় মকর মেলা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তবে পরদিন ভোরে গরু পরিবহনের অভিযোগ তুলে একদল লোক তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করে।
নিহতের ভাই এসকে জিতেন্দর মোহাম্মদ জানান, সাত সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন মাকান্দার। তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, তিন সন্তান—যাদের একজনের বয়স মাত্র দুই মাস—এছাড়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ও মা। তারা বালাসোর শহরের উপকণ্ঠের আস্তিয়া এলাকার বাসিন্দা।
জিতেন্দর বলেন, মাকান্দার বালাসোর শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং দৈনিক প্রায় ৫০০ রুপি আয় করতেন। ‘সেদিন কেন তিনি ওই ভ্যানে উঠেছিলেন, তা আমরা জানি না,’ বলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে একটি ভ্যানে করে যাওয়ার সময় গবাদিপশু পরিবহনের অভিযোগ তুলে ভ্যানটির চালক ও মাকান্দারকে একদল লোক রাস্তায় আটকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর প্রথমে বালাসোর সদর থানায় দায়ের করা এফআইআরে হামলার কোনো উল্লেখ ছিল না। সেখানে বলা হয়, গবাদিপশুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান বেপরোয়া গতিতে চলার সময় উল্টে যায়। ওই ঘটনায় পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ও উড়িষ্যা গো-হত্যা প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।
পরবর্তীতে নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় আলাদা একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। এতে তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ ব্যক্তি ভ্যানটি আটকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে তার ভাইকে মারধর করে হত্যা করে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাকান্দারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, হামলায় আরও অনেকে জড়িত ছিল। জিতেন্দর বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। কেউ অপরাধ করলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা মানবতাবিরোধী।’