আল-আকসায় তারাবি বন্ধ, ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বললেন খতিব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর ঘোষিত তথাকথিত ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে অধিকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলমানদের প্রথম কিবলা মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবির নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। রমজানের ১১তম দিনের রাত থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মুসল্লিদের জন্য মসজিদের সব প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ ও ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব শায়খ একরিমা সাবরি। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার অজুহাতে মসজিদ বন্ধ রাখার কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসার ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ইসলামী ওয়াকফ বিভাগের সূত্র জানায়, শনিবার রাতে সাধারণ মুসল্লিদের কাউকেই মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কেবল ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনাইনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং হাতে গোনা কয়েকজন ওয়াকফ কর্মী এশার নামাজ আদায় করার সুযোগ পান।
জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, চলতি রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন লাখো মুসল্লি অংশ নিলেও এখন আল-আকসা কার্যত মুসল্লিশূন্য। যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বলে জোহরের আজানের আগেই মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মসজিদের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন খতিব।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং জরুরি খাত ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ রেখে কঠোর জরুরি অবস্থা জারি করেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে পুরো রমজানজুড়েই আল-আকসা বন্ধ রাখা হতে পারে।
এদিকে জেরুজালেমের সিলওয়ান, আইন আল-লওজা, আল-ইসাওইয়া ও পুরনো শহর এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সময় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানা গেছে। একই অজুহাতে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদও বন্ধ রাখা হয়েছে।
রমজানের ভরা মৌসুমে মুসল্লিশূন্য আল-আকসার দৃশ্য অনেকের মনে ২০২০ সালের মহামারির সময়কার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তবে জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস মনে করেন, এটি কেবল নিরাপত্তাজনিত পদক্ষেপ নয়; বরং আল-আকসাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত প্রয়াস।
প্রতি বছর রমজানে লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত থাকা এই পবিত্র স্থানে আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানে ইবাদতের ওপর এই বিধিনিষেধে বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।