দুর্নীতি মামলা থেকে বাঁচতে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৫ পিএম
গত কয়েক বছর ধরে চলমান দুর্নীতির মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এক ভিডিওবার্তায় তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “আমি মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মাননীয় প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। আমার আইনজীবীরা ইতোমধ্যে চিঠি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। আশা করি দেশের উন্নতিস্বার্থে সবাই এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন।”
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তর চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রেসিডেন্ট হেরজগ বলেন, “এটি একটি বিস্ময়কর অনুরোধ, যার গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। প্রাসঙ্গিক সব তথ্য ও মতামত গ্রহণের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
নেতানিয়াহুর ভিডিওবার্তা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে সমাবেশে অংশ নেন। এতে অংশ নেন পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় এমপি নামা লাজিমিও। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট যদি ক্ষমা দিয়ে দেন, ইসরায়েল পুরোপুরি বানানা রিপাবলিকে পরিণত হবে।” বিক্ষোভকারীরা ‘ক্ষমার মানে বানানা রিপাবলিক’ স্লোগান দেন।
মানবাধিকারকর্মী শিকমা ব্রেসলারও সমাবেশে অংশ নেন। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু দেশের জন্য দায়বদ্ধ নয়, বিচার থেকে অব্যাহতি চাইছেন। সাধারণ মানুষ কখনও এটি মেনে নেবে না।” প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেন, “নেতানিয়াহু এখনো অপরাধ স্বীকার করেননি বা অনুতাপ প্রকাশ করেননি। তাকে ক্ষমা দেওয়া উচিত নয়।”
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জেরুজালেম জেলা আদালতে ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের তিনটি দুর্নীতি মামলা চলছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ও তার স্ত্রী ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে দামী উপহার গ্রহণ করেছেন, মিডিয়ার কাছে অযথা সুবিধা দিয়ে ইতিবাচক প্রচার পেয়েছেন এবং টেলি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বেজেককে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার জন্য ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
২০১৯ সালে মামলা শুরু হলেও নেতানিয়াহু তখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। ২০২১ সালে তিনি বিরোধী নেতা থাকাকালীন মামলা পুনরুজ্জীবিত হয়। হামাসের হামলার পরও কার্যক্রমে বিরতি দেয়া হয়েছিল, যা ফের শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহু সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।