ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েন হবে না: ইসি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এখন কেবল পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাডেটদের নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা সংশোধিত নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট (ওসিভি ও আইসিপিভি) গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন বিএনসিসি ক্যাডেটরা।
এ ছাড়া ভোটগ্রহণের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে পাঁচটি সেকশন দায়িত্ব পালন করবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন। মোতায়েনের আগে ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করতে হবে।
সর্বোচ্চ তিনটি নির্বাচনী এলাকার জন্য একটি করে সেকশন (একজন করপোরাল ও ১০ জন ক্যাডেট) হিসেবে দেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় মোট ১২৩টি সেকশন মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পাঁচটি সেকশন দায়িত্ব পালন করবে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিয়োজিত ক্যাডেটরা চূড়ান্ত বেসামরিক ফল প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মোতায়েনকৃত বিএনসিসি ক্যাডেটরা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ প্রদান বাধ্যতামূলক থাকবে।
ক্যাডেটদের মোতায়েন ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণ ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা সমীচীন নয়। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়ই বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। বিএনপির এই আপত্তির প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন আগের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।