‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় সংসদে চলমান আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে—এই যাতনা তো আমরা বুঝি, মাননীয় স্পিকার। যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল, এখন সেটি বেদখল হওয়ার সময় একই ধরনের যন্ত্রণা অনুভূত হওয়াই স্বাভাবিক।’
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম ও ভবিষ্যতে সরকারের করণীয় বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আরডিএস’-এর আওতায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হলেও সেই অর্থ আর ফেরত আসেনি। এ অর্থ একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ব্যবহৃত হয়েছে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি গ্রুপটির ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দায়ও খতিয়ে দেখা হবে।
ব্যাংকটির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিয়ম ভেঙে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ৬ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৩ হাজার কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিকবার পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের অর্থ ব্যবহার করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসবে।
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির ৮১ শতাংশ শেয়ার একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সব শেয়ারধারীর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হবে এবং বৈধ মালিকদের কাছে শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা লক্ষ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগসহ বিদেশে অর্থ পাচারের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্তও চলমান নেই। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো অভিযোগ এলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য ব্যাংক খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারকে নতুন করে সামনে এনেছে।