যার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যাদের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী উপস্থাপন করা হলে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ বারবার বাড়ানো হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প ব্যয় কমানোর ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বেশির ভাগ ব্যয় অস্বাভাবিক এবং তা পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার রেট শিডিউলে অসামঞ্জস্য থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব রেট শিডিউল একীভূত করার তাগিদ দেন।

সভায় সড়কের পাশের বৃক্ষরোপণ নিয়েও মতামত দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল, যা পরিবেশকে সমৃদ্ধ করত। বর্তমানে ঢাকা-বগুড়া সড়কেও পর্যাপ্ত গাছ নেই। সড়কের পাশে যেন ইউক্যালিপটাস ও ইপিল-ইপিল গাছ রোপণ না করা হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের ঈদমনি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এর আওতায় আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ককে আধুনিক মান ও প্রয়োজনীয় প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে।

এ ছাড়া বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন, সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ, ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ এবং ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবও একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।

এদিকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970