জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাব্য তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩০ এএম
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য তিনটি সম্ভাব্য তারিখ- ৫, ৮ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কমিশনের ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সবদিক বিবেচনায় ৮ ফেব্রুয়ারি রোববারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের দিন হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ কোনো পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ওই দিনই ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন এবার তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় রাখতে চায়। সাধারণত দেড় মাসের মতো প্রস্তুতির সময় রাখা হলেও এবারের নির্বাচনে প্রায় দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য ৭ বা ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সেটি ঘোষণা করবেন।
ইতোমধ্যে কমিশন পরিষ্কার করেছে- জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল একই সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। গণভোট আইন না থাকায় ইসির প্রস্তুতিতে কিছু বাধা থাকলেও সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদনের পর তা জারি হওয়ায় এখন আর কোনো আইনি জটিলতা নেই।
এবার গণভোটে ‘জুলাই চার্টার’-সংক্রান্ত একটি প্রশ্নে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ চিহ্ন দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট থাকবে সাদা রঙে এবং গণভোটের ব্যালট হবে আলাদা রঙে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইভিএম বাদ দিয়ে পুরো ভোটগ্রহণ করা হবে ব্যালট পেপারে। প্রায় তিন লাখের বেশি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স লাগলেও কমিশনের কাছে আগেই পর্যাপ্ত বাড়তি বাক্স মজুত রয়েছে; প্রয়োজনে আরও তৈরি করা হবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩৪ জন। প্রবাসীরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—এবার প্রায় পাঁচ কোটিরও বেশি তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দেবে, ফলে তরুণ ভোটাররাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট লাখের বেশি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য এবং বিজিবির ১,২১০ প্লাটুন কাজ করবে। দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটের আগে-পরে মোট ১০ দিন সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী কেন্দ্রগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন জোনে ভাগ করা হয়েছে।
ইসির মতে, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। এজন্য আগামী শনিবার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে দেখা হবে—কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানো দরকার কি না, ভোটকক্ষ বাড়ালে ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং একই কেন্দ্রে দুই ধরনের ব্যালট ব্যবস্থাপনায় কতটা সময় লাগতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিও এখন তুঙ্গে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করেছে, যা তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত হবে। জামায়াত ঘোষণা দিয়েছে ৩০০ আসনের জন্য প্রার্থী নাম প্রকাশ করলেও প্রাথমিকভাবে ১৫০ আসনে পরিবর্তন আনবে। বিভিন্ন ইসলামী দল, বাম দল ও অন্যান্য ক্ষুদ্র দল নিজেদের জোট ও নির্বাচনি কৌশল চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচনী আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ইসি জানিয়েছে- পলাতক আসামিরা নির্বাচন করতে পারবেন না; একক প্রার্থী থাকলে ‘না’ ভোট প্রথা থাকবে; প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদ ঘোষণা বাধ্যতামূলক; আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাস কারাদণ্ড হবে। এছাড়া নির্বাচনি অনিয়ম প্রমাণ হলে পুরো এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা কমিশন প্রয়োগ করতে পারবে।
সব মিলিয়ে কমিশন জানাচ্ছে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতিই প্রায় শেষ। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই তফসিল ও ভোটের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে ইসি।
সূত্র: আমারদেশ