চাঁদা ‘না দেওয়ায়’ শারীরিক প্রতিবন্ধীর কারখানা ভাঙচুর, ট্রাকে করে পণ্য লুট

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় একটি উৎপাদনমুখী কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও ট্রাকে করে পণ্য লুটের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ, যার মালিক শারীরিক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন (৪৩)।

তিনি ২০২০ সালে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি কিনে জিআই তার উৎপাদনের এই কারখানা গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে উৎপাদিত পণ্য সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি হয়। কারখানাটিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অর্থায়ন রয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একদল ব্যক্তি কারখানায় হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর, ভাঙচুর এবং ট্রাক এনে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলার পর দুই দিন উৎপাদন বন্ধ থাকে। পরে শিল্প পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এলাকায় মাঝেমধ্যে চাঁদা দেওয়ার চাপ থাকলেও এভাবে হামলা ও লুটের ঘটনা তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং মাসিক ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ খানকে মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনও আহত হন। পরে তাঁদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং আসবাবপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা করতে গেলে রূপগঞ্জ থানায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম বাদ না দিলে মামলা নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে তাঁর নাম বাদ দিয়ে ৯ জনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে যুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে কাজল আকন, নিশাত আকন, মো. সজল হোসেন, সাদিকুল, মো. ফাহিম, আজিজ মৌলভি ও বোরহানউদ্দিনের নাম রয়েছে। এজাহারে নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মনোয়ার হোসেনের দাবি, চাঁদার বিষয়ে তিনি একাধিকবার মাহফুজুর রহমানকে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তবে রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল মামলায় সত্য ঘটনা উল্লেখ করতে বলেছেন। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি; তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে অন্য সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, কারখানা মালিককে তিনি চেনেন না এবং চাঁদা দাবির বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে—এ দাবি সঠিক নয়। ঘটনার দিন থানা থেকে ফোন পেয়ে খোঁজ নিতে তিনজনকে পাঠিয়েছিলেন; পরে শুনেছেন তাঁদের নামেও মামলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ বলেন, অভিযোগ সত্য হলে এটি ফৌজদারি অপরাধ। জড়িতরা যে-ই হোক, দলীয় পরিচয়ে কেউ ছাড় পাবে না।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970