ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের খবর শুনে ইউনিয়ন পরিষদে ভিড়, টাকা দিয়ে আবেদন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা-এ সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলার নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। তবে সেই তালিকায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকলেও ১২ নম্বর আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের খবর শুনে ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের দীর্ঘ সারি। কারও হাতে ছবি, কারও হাতে টাকা। উদ্যোক্তার কক্ষে হুমড়ি খেয়ে পড়েন আবেদনকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার রসিদ ছাড়াই আবেদন বাবদ ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
আবেদন করতে আসা বাশদী গ্রামের রুবি আক্তার জানান, সকালে শুনেছেন আবেদন শুরু হয়েছে। তাই ১০০ টাকা নিয়ে এসেছেন। চেয়ারম্যানের ভাতিজা টাকা নিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফরম দেননি।
আরেক আবেদনকারী আছমা আক্তার বলেন, মানুষের মুখে শুনে আবেদন করতে এসেছেন। টাকা জমা দিয়েছেন, বলা হয়েছে আগামী সপ্তাহে কাগজ দেওয়া হবে। নির্দেশনা ছাড়া কীভাবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস বলেন, কম্পিউটারে আবেদন নেওয়া হলে যে কেউ আবেদন করতে পারে এবং ১০০ টাকা নেওয়াও সম্ভব। তবে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কোনো সরকারি চিঠি তিনি পাননি এবং আবেদন গ্রহণের জন্য কাউকে নির্দেশ দেননি বলে দাবি করেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আগাম আবেদন গ্রহণ করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে মো. আরিফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন নেওয়ার বিষয়টি শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে আছিম বাজার উন্নয়নের নামে প্রায় ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।