‘এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট’ ভিজিএফ কার্ড দাবি বিএনপি নেতার, অডিও ভাইরাল
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ এএম
ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ‘৩০ শতাংশ’ নিয়ে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এক বিএনপি নেতা ও একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, এক ব্যক্তি মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে উদ্দেশ করে বলছেন— ‘মদাতী চেয়ারম্যান বিপ্লব ভাই বলছেন, আমাকে তো আবার চিনেন না, চিনবেনও না। আপনি এমপি সাহেবের ৩০ শতাংশ আমাদের লোককে বুঝিয়ে দিয়েছেন কি?’
এর জবাবে চেয়ারম্যান বিপ্লব বলেন, ‘না, ৩০ শতাংশ না, আমরা তো এ নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম।’ তখন অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনারা কেন বৈঠক করবেন? আমাদের বরাদ্দ নিয়ে কীসের বৈঠক? এক হাজার তিনটি টোকেন আপনি বুঝিয়ে দেবেন।’
সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সবুজ ও মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায় ও একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের আরেকটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে ভিজিএফ চালের এমপির বরাদ্দ নিয়ে কথাবার্তা বলতে শোনা যায়। অডিওতে বিধান চন্দ্র রায়কে বলতে শোনা যায়, এমপির বরাদ্দ এক হাজার তিনটি। জবাবে চেয়ারম্যান বিপ্লব বলেন, অতীতে চারশ করে নাম দেওয়া হয়েছিল। তখন বিধান চন্দ্র রায় তাকে এমপির মামা সবুজের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সবুজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মোবাইল রেকর্ডিং নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায় অডিও রেকর্ডিংকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ভিজিএফ প্রসঙ্গে এমপির বরাদ্দ নিয়ে কারও সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণের জন্য উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮৬৪টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মদাতী ইউনিয়নে বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ৩৪৫টি কার্ড।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি অবহিত করতে হয়। তবে এখানে ৩০ শতাংশ কোটার কোনো বিধান নেই। অডিও ভাইরালের বিষয়টি তারাও শুনেছেন এবং এটি বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।