তিন বছরের ব্যবধানে আট গুণ বেশি টাকায় আবার খনন করছে পাউবো
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মির্জা মামুদ খাল তিন বছর আগে খনন হওয়ার পর আবারও খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। একই খালে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় আট গুণ বেশি ব্যয়ে পুনঃখনন শুরু হওয়ায় উঠেছে নানা প্রশ্ন।
জানা গেছে, প্রায় ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি বর্তমানে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন একই খালের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ মাত্র ৩৪ লাখ টাকায় খনন করেছিল।
গতকাল সোমবার সকালে খননকাজের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার ও সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ। এ সময় রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দাবি করেন, আগের খননকাজ বাস্তবে হয়নি, কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার প্রকৃতভাবে খননকাজ সম্পন্ন করা হবে এবং তা তদারকি করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, খালটির নন্দকুঁজা নদীর অংশ থেকে মরা বড়াল নদী পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে খালের তলদেশ থেকে প্রায় ৪ ফুট গভীর এবং ৬ ফুট প্রস্থে খনন করা হবে।
তবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দুই ধাপে ৪ কিলোমিটার খাল খনন করা হয় এবং তখন ১০ থেকে ১১ ফুট গভীরতায় খনন করা হয়েছিল। এতে খালের নাব্যতা ফিরে আসে এবং কৃষকেরা চাষাবাদে এ খালের পানি ব্যবহার করছেন।
বড়াইগ্রাম উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউল হক বলেন, বর্তমানে খালটি খননের প্রয়োজন নেই। এভাবে পুনরায় খনন করা হলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। তিনি নাব্যতা হারানো অন্য খাল খননের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং এ খালটি আগে খনন হয়েছিল কি না সে বিষয়ে তার কাছে তথ্য নেই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, আগের সরকারের সময়ে খাল খননের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার প্রকৃত খননকাজ নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।