সাংবাদিকের গোডাউন থেকে জব্দ করা চাল এতিমখানা-মাদরাসায় বিতরণ
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় সাংবাদিকের গোডাউন থেকে জব্দ করা সরকারি চাল অবশেষে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসাগুলোতে বিতরণ করেছে রাজিবপুর থানা পুলিশ। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
আরও পড়ুন : সাংবাদিকের গোডাউনে সরকারি চাল কেলেঙ্কারি, ৫০ হাজার জরিমানা (ভিডিও)
জানা গেছে, সম্প্রতি শিবেরডাঙ্গী বাজার এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালান। তাদের দাবি অনুযায়ী, আবুল হোসেনের মালিকানাধীন একটি গোডাউনে সরকারি চাল মজুদের তথ্য পেয়ে তারা অভিযান চালিয়ে দুটি গোডাউন থেকে মোট ৭১ বস্তা চাল জব্দ করেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন : কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে বয়কট করে রাজিবপুরের তিন প্রেসক্লাবের যৌথ বিজ্ঞপ্তি
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এ সময় ফাতেমা ট্রেডার্সের মালিক এবং একটি গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া সমন্বয়ক সোহেল রানা স্বপ্নকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত চাল রাজিবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল কবির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম শামীম এবং রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুসা মিয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্ত সোহেল রানা স্বপ্ন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার মায়ের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ চাল বিতরণ করা হলেও কিছু চাল গোডাউনে সংরক্ষিত ছিল এবং কিছু সুবিধাভোগী তাদের প্রাপ্ত চাল বিক্রি করে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাল জমা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, জব্দ করা চাল ভিজিএফ বা ইউনিয়ন পরিষদের নয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রাজিবপুর থানা পুলিশ জব্দকৃত চালগুলো স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসাগুলোতে বিতরণ করে। পুলিশ সূত্র জানায়, মানবিক বিবেচনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে জব্দ করা খাদ্যসামগ্রী প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যায়।
ঘটনাটি শুরু থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে জব্দকৃত চাল অসহায়দের মাঝে বিতরণ হওয়ায় মানবিক দৃষ্টান্তও স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।