পানি নেমে গেছে, ভেসে উঠছে ফসলের ক্ষতচিহ্ন

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১৯ পিএম

ছবি: মনোযোগ প্রকাশ

কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোয় গত ৪ অক্টোবর থেকে হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছায়। টানা দুই দিন পানি বৃদ্ধির পর ৬ অক্টোবর থেকে পানি নামতে শুরু করে। বর্তমানে পানি পুরোপুরি নেমে গেলেও, সেই পানির ক্ষতচিহ্ন রয়ে গেছে জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার বন্যা ও আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রামের প্রায় ১ হাজার ৭৮৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোপা আমন ধান, সবজি এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসল। অনেক ক্ষেতেই পানিতে ডুবে পচে গেছে ধানগাছ, জমে থাকা পলির কারণে শুকিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত।

‎বুধবার সরেজমিনে নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম, চর নুচনি, ফান্দেরচর, নতুন সুইচগেট, কমলারকুটি ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সিটমালিয়ানি এলাকায় জমি থেকে পানি নামলেও ফসলের ওপর পুরু পলির স্তর জমে আছে। পলির নিচে চাপা পড়ে ধানগাছগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেতেই ধানগাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

‎চর নুচনির কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, অসময়ে পানি আসার কারণে আমার চার বিঘা ধানের ক্ষেত একদম নষ্ট হয়ে গেছে। গাছগুলো পচে গেছে এখন আর ধান হওয়ার কোনো আশা নেই।

‎ধাউরারকুটির কৃষক রজ্জাক আলী ও আবুল কালাম বলেন, ভারতের দিক থেকে অসময়ে পানি ছেড়েছে। পানি বন্দী হয়ে গেছে আমাদের ধানক্ষেত। শুধু পানি না, সাথে কাঠের গুড়িও এসে ধানগাছ ভেঙে দিয়েছে। পুরো ফসলটাই নষ্ট।


‎কমলারকুটির কৃষক হাফিজুর মিয়া বলেন, আমার ছয় বিঘার মধ্যে চার বিঘা জমিতেই পলি জমে গেছে, সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি দুই বিঘা একটু ভালো আছে, কিন্তু ফলন ভালো হবে না। আমি ঋণ করে চাষ করেছিলাম এখন কী দিয়ে ঋণ শোধ করব?

‎নাগেশ্বরীর দামালগ্রাম এলাকায় দুধকুমার নদীর পাড়ে একসাথে প্রায় দুই শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গত তিন দিনে নদীর তীব্র ভাঙনে কয়েক বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রাম সদর, রাজিবপুর, রৌমারী, ফুলবাড়ী, উলিপুর, রাজারহাট, ভুরুঙ্গামারী ও চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলেও।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, আমাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৭৮৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে ছিল। এখন পানি নেমে গেছে। মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে চূড়ান্তভাবে কতটুকু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা শিগগিরই জানানো যাবে।

‎তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে পলির আস্তরণে ফসল ঢেকে গেছে। এই অবস্থায় গাছের পচন রোধে আগে সাদা পানি (পরিষ্কার পানি) দিয়ে স্প্রে করে পলি ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর সার প্রয়োগ করলে কিছুটা ফলন উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970