নিজ দলের কর্মীকে আ.লীগ পরিচয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৮ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফলে জাল কাগজ তৈরি করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক সেজে বিএনপি কর্মী ফয়সাল পঞ্চায়েতকে গ্রেপ্তারের পেছনে প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতাকর্মীরাই জড়িত এমন অভিযোগ উঠেছে এলাকায়।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দায়ের হওয়া একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ফয়সাল কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের অফিসিয়াল প্যাড, যেখানে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ফয়সাল পঞ্চায়েতের নাম ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে ইউএনও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমির বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর। অভিযোগ করা হয়- এক বছরের জন্য খাস জমি চাষের অনুমতি দিতে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ইউএনওর সহযোগী হিসেবে ফয়সালসহ কয়েকজন কাজ করেছেন, আর সেখান থেকেই তাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ফয়সালের বোন মিম্মি পঞ্চায়েত অভিযোগ করেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ফয়সাল কখনো স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেননি। তার দাবি পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকার ভূমিদস্যু বলে পরিচিত মোচন পঞ্চায়েত জাল কাগজ বানিয়ে তার ভাইকে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে ফাঁসিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মোচন শুধু আমাদের পরিবারের সাথেই না, আশপাশের বহু মানুষের সাথেও জমি নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসান।”
ফয়সালের চাচাতো ভাই রিয়াজ পঞ্চায়েত জানান, ফয়সাল কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য এবং নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ছিলেন। রিয়াজ বলেন, “একটি চক্র শুধু তাকে নয়, আমাকেও আওয়ামী লীগ পরিচয়ে ফাঁসিয়েছিল। অথচ অতীতে আমিই বহুবার আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগই অসত্য প্রমাণিত হয়েছিল।”
অন্যদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ভাইরাল হওয়া প্যাডটি আসল হলেও দপ্তর সম্পাদকের স্থানে ফয়সালের নামটি ভুয়া। তার ভাষ্য ‘সুপার এডিটিং’ করে প্রকৃত দপ্তর সম্পাদক জসিমের নাম বাদ দিয়ে ফয়সালের নাম বসানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোসলেম পঞ্চায়েত ওরফে মোচন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, “আমি কাউকে ফাঁসাইনি। নিজের জমি ছাড়া অন্যের জমিতেও যাই না। বরং যারা আমার জমি দখল করতে চায়, তারাই এসব অপবাদ ছড়াচ্ছে।”
পটুয়াখালী ডিবির কোনো কর্মকর্তা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাউফল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ফয়সালের গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথমে থানা পুলিশের জানা ছিল না। ডিবি আটক করার পর তারা তা অবগত হন। তিনি বলেন, “তার রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে আদালতকে বিস্তারিত জানানো হবে।”