সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়ার অভিযোগে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার সংসদের অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেন।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচির শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে।
কার্যসূচির শেষভাগে ‘বাংলাদেশ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সরকারি পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের অনুলিপি পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি বলেন, তিন দিনের এই শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা স্পিকারের থাকলেও তা প্রয়োগ করা হলে সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল। অন্যথায় এটি সংসদীয় বিধির উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর জবাবে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিল দুটি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিলের অনুলিপি বিতরণ করা হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই সংসদ কক্ষ ত্যাগ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের দলের প্রাপ্য ২৬ শতাংশ বক্তব্যের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নতুন বিল উত্থাপনের ক্ষেত্রেও যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নাজিবুর রহমানের ভাষ্য, বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন করলেও স্পিকারের কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকি বিরোধী দলের সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এসব কারণেই বক্তব্যের ন্যায্য সময়, সংসদীয় কার্যপ্রণালি এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার অধিকার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।