‘শহিদের মা তো জাতির মা, আমারও মা, কিছু শ্রেণির ইতর এটা নিয়ে বুলিং শুরু করেছে’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২০ পিএম
শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শহিদের মা তো জাতির মা, আমারও মা—এটা নিয়ে এক শ্রেণির ইতর বুলিং শুরু করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এক শহিদের মা আবেগপ্রবণ হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেন। আমি তো তাকে ছুড়ে মারতে পারি না। কিন্তু এই মানবিক দৃশ্য নিয়েই কিছু মানুষ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। তাদের কি ঘরে মা-বোন নেই—এই প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবার ও আহতদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা করা হয়। জনসভা শেষে জামায়াত আমির শহিদ পরিবার ও আহতদের খোঁজখবর নিতে তাদের কাছে যান। এ সময় এক শহিদ জননী তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ফেনীর জনসভায় বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে—এই রাজনীতির সংস্কৃতি আমরা পরিবর্তন করতে চাই।’ তিনি বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি দেশকে ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। সেই রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখানোর ঘোষণা দেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, কিছু জায়গায় অযথা মাথা গরম করা হচ্ছে। শীতের দিনে যদি মাথা গরম হয়, চৈত্রে কী হবে? জুলাই যোদ্ধা ও শহিদদের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মা-বোনদের ওপর হাত তোলা বন্ধ করতে হবে। নিজের মা-বোনকে সম্মান করলে দেশের সব মা-বোনকে সম্মান করা সম্ভব।
১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষে ভোট চেয়ে শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে এই প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।