তাঁতীদল নেতা ও প্রশাসনের যোগসাজশে অবৈধ বালু ব্যবসা, ক্ষতিগ্রস্ত নদী ও গ্রামবাসী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৪১ পিএম

ছবি: মনোযোগ প্রকাশ

কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালুর ব্যবসা। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে ব্রহ্মপুত্র নদীর করাতিপাড়া এলাকায় চারটি বালুবোঝাই ট্রলার আটক করে স্থানীয় গ্রামবাসী। প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর ব্যবসায়ীরা ট্রলার থেকে বালু ফেলে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রলারযোগে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে, ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বসতভিটা নদীতে বিলীন হচ্ছে। তারা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন তাঁতীদল নেতা আরিফুলকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চলছে।

 

রাজিবপুর উপজেলা শাখার তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক আলমাছ হোসেন মুঠোফোনে জানান, আরিফুল ইসলাম সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে সর্বশেষ যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে আরিফুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর কোদালকাটি ইউনিয়নে ট্রলার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, ট্রলার চলাচলের কারণে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খেটে খাওয়া মানুষের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে, অল্প যে জমি বাকি আছে সেটিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত অবৈধ বালুবোঝাই ট্রলার বন্ধের দাবি জানান তারা।

 

চর রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ ইউনিয়নেও একইভাবে চলছে অবৈধ বালুর ব্যবসা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু তোলা ও ট্রলার চলাচল অব্যাহত থাকলে একসময় পুরো ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

বালু ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন জানান, তারা চিলমারী থেকে বালু কিনে আনেন। সেখানে কীভাবে অনুমতি নেওয়া হয়, তা তিনি জানেন না।

অপরদিকে স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজের জমিতে বালু কিনে ফেলে রাখছেন। তবুও প্রশাসনের অনুমতির কথা বলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এ বিষয়ে অবগত করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ—আপনি ট্রলারপ্রতি টাকা নেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সংক্ষেপে বলেন, “এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলব।”

এ প্রসঙ্গে চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহী জানান, নদী রক্ষার দায়িত্ব মূলত নৌ পুলিশের। তিনি আরও দাবি করেন, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কিছু লোক নিজেরাই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিএনপি নেতা আমিনুল মাস্টারের নাম উল্লেখ করেন। তবে আমিনুল মাস্টার মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি কোনোভাবেই বালু তোলা বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বালু ব্যবসায়ী প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অনুমতিহীনভাবে ট্রলার থেকে বালু কিনে অবৈধ ব্যবসা করছে। এর ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষিজমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970