রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সমান্তরাল ব্যবসা ও দখল-সন্ত্রাসের অভিযোগ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমান্তরাল ব্যবসা, অবৈধ দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইঞ্জিনিয়ার মিরশাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে “মৌমি এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি রাজশাহী নগরীর থিম ওমর প্লাজার প্রায় ৯ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন, যেখানে তিনি নিজেই কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ওই জায়গায় “লাক্সারি” নামে একটি দোকান চালু করা হয় এবং অফিসের স্টাফদের ওই দোকানে কাজে লাগানো হতো।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, স্টাফদের ব্যবহার করে মালিকপক্ষের একই ধরনের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হতো। এছাড়া স্টাফদের হুমকি দিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে এক মাসের জন্য বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত (ওএসডি) করলে স্থানীয় ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের সহায়তায় তিনি পুনরায় অফিসে যোগ দেন। এরপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে অফিসে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং স্টাফদের জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য নেওয়া হতো যে, তাকে ছাড়া প্রতিষ্ঠান চলবে না।

নতুন সিইও দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্থিক ও প্রশাসনিক হিসাব-নিকাশ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অপসারণের আশঙ্কায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয় এবং একটি বানোয়াট কোম্পানির আড়ালে অফিস দখলের চেষ্টা চালানো হয়। মালিকপক্ষ অন্য জায়গা ভাড়া দিতে চাইলে মিরশাদ অন্য নামে সেই জায়গা ভাড়া নিয়ে নিচের “লাক্সারি” দোকানটি উপরের নতুন স্থানে স্থানান্তর করেন। সেখানে আরও বড় স্পেসে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জায়গা নেওয়ার জন্য যে সিকিউরিটি মানি পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে, সেটিও পরিশোধ না করেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নতুন সরকার গঠনের পর তিনি অফিসের অন্যান্য কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে পুরো ভাড়া আদায় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভাড়া আদায় করা হয় এবং মালিকপক্ষের কেউ প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে গেলে হুমকি দেওয়া হয়। সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দখল করার পর মালিকপক্ষের বাসা লুট, পার্কিংয়ে থাকা মালামাল বাজেয়াপ্ত এবং ৪টি দোকানের স্টোর থেকে মালামাল লুট করা হয়। এরপর সেগুলো নিজের দোকানে নিয়ে গিয়ে ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কেটে আগুন লাগলে সব দোকান থেকে চাঁদা হিসেবে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। তিন মাসের ইলেকট্রিক বিল নেসকো অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করে বকেয়া রাখা হয়, যা পরবর্তীতে মালিকপক্ষকে ৯ লক্ষ টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। এভাবে লুটপাটের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির বর্তমান এক মন্ত্রীকে ঘিরেও তিনি নিজ উদ্যোগে রাজশাহীর একটি প্রধান পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করান, যাতে তার কর্মকাণ্ডে কেউ বাধা দিতে না পারে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার মিরশাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970