অর্থ আত্মসাতে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে যুবসমাজ
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ জয়কে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনার জেরে আর্থিক সাহায্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এলাকার একদল সচেতন যুবক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব নাজমুল মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাসেল মাহমুদ জয়কে তার পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের ধুবালিয়া পাড়া, ধুলাউড়ি ও বাউল পাড়া গ্রামের শতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মানুষকে নানা আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়া হলেও বাস্তবে তারা কোনো সুবিধাই পাননি।
এ ঘটনায় অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদকে সামনে রেখে এসব অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান পরশ, জাহিদুল ইসলাম, সুজন মাহমুদ, আশিক মাহমুদ ও সাব্বির মামুনসহ কয়েকজন তরুণ।
উদ্যোগের অন্যতম সংগঠক মাহমুদুল হাসান পরশ বলেন, “নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবার এই ঘটনার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই ঈদের মতো উৎসবেও স্বাভাবিকভাবে দিন কাটাতে পারছে না। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় প্রায় শতাধিক পরিবার প্রতারণার শিকার হয়েছে। এমন পরিবারও রয়েছে, যারা এক বেলা খাবার জোগাড় করতেও পারছে না। আমরা সীমিত সামর্থ্য দিয়ে কিছু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের আশায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছেও গিয়েছেন, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। একজন জনপ্রতিনিধির এমন নীরবতা ও উদাসীনতা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন প্রতারণার ঘটনা আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একদিকে যেমন যুবকদের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়, অন্যদিকে প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।