ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কলেজছাত্রী নিখোঁজ, ভারতে পাচারের আশঙ্কা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩ এএম
চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের এক শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, এতে সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বর্তমান নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২০)। ইসলাম গ্রহণের আগে তার নাম ছিল তন্নী দে বিপন্না। তিনি কলেজটির দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ তাকে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যদিও তিনি প্রাপ্তবয়স্ক, তবুও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি সহপাঠীদের কাছে অভিযোগ করেন, তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে অথবা ভারতে পাচার করা হতে পারে। পরবর্তীতে বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত উদ্ধারের আকুতি জানান তিনি। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কলেজের এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে জারার বাবা সঞ্জিত কুমার দে ও মা তপশী দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমে থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় পরে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়।
গত ৬ এপ্রিল আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে জারাকে উদ্ধার করে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে জারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং গত ১ মার্চ আদালতে হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন। এরপর থেকেই পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয় এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার পর থেকে জারার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় শঙ্কা আরও বাড়ছে। তারা মনে করছেন, পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে কলেজের শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জারাকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার না করা হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন।