বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে মিললো শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, ক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষের জানালার গ্রিলে মেহেদীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মেহেদী হাসান রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে। তিনি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে মেহেদীর পরিবারের সদস্যরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছেন, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, তার ছেলে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল এবং আত্মহত্যা করার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। তাই তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার পর ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষে ভাঙচুর চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। এ সময় রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকিং করে উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আশ্বাস দেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।