রাশিয়ার চার যুদ্ধজাহাজে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের বাহিনী। সোমবার পরিচালিত এই সুপরিকল্পিত অভিযানে রাশিয়ার অন্তত চারটি শক্তিশালী রণতরীকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। এতে রুশ নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রের বরাতে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় তিনজন রুশ নাবিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত চৌদ্দজন আহত হয়েছেন।
হামলার সবচেয়ে বড় আঘাত লাগে রাশিয়ার আধুনিক যুদ্ধজাহাজ অ্যাডমিরাল এসেন-এ। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই রণতরীটি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলায় ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে জানা যায়।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, জাহাজটির মাঝামাঝি অংশে সরাসরি আঘাত লাগার ফলে এর বিদ্যুৎচৌম্বক যুদ্ধ ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে অকেজো হয়ে গেছে। এর ফলে জাহাজটি এখন আর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম নয়।
নোভোরোসিস্ক উপসাগরকে রাশিয়ার অন্যতম সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। তবে সেই নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ইউক্রেনের আকাশযান ও সামরিক ইউনিট বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। হামলার পর অ্যাডমিরাল এসেন রণতরীর ডেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রুশ বাহিনীর প্রায় আঠারো ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানা গেছে।
এই হামলায় অ্যাডমিরাল এসেন ছাড়াও রাশিয়ার আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাইন অপসারণকারী জাহাজ ভ্যালেনটাইন পিকুলন এবং সাবমেরিনবিরোধী জাহাজ ইয়েসেক ও কাশিমভ। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, সমন্বিত এই আক্রমণের ফলে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহর বড় ধরনের নেতৃত্ব ও কারিগরি সংকটে পড়েছে।
শুধু সামরিক জাহাজই নয়, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালও। নোভোরোসিস্কের ওই তেল টার্মিনালের সাতটি জাহাজ ভিড়ানোর স্থানের মধ্যে ছয়টিই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। পাশাপাশি একটি নির্দেশনা রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবু এই ঘটনার পর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।