আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবে বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২৫০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ এএম
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।
মঙ্গলবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থা দুটি জানায়, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে আন্দামান সাগরে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি ডুবে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকায় ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জীবিত ব্যক্তির বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রলারটিতে প্রায় ২৫০ থেকে ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এখন পর্যন্ত মাত্র নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের ভাগ্য নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই মর্মান্তিক ঘটনা দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ পরিণতি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশা আরও কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংস্থাগুলো আরও জানায়, মানবপাচারকারীদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও বিদেশে ভালো জীবনের আশ্বাস অসহায় মানুষকে প্রাণঘাতী যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে। এর ফলে আন্দামান সাগর আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলোর সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে।