গণভোট প্রচারে ছয় মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১৪০ কোটি টাকা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারের নির্বাচনি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার বেশি। এই ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে গণভোটের প্রচারণায় ছয়টি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাজেট শাখা সূত্রে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ছয়টি মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে এই অর্থ ব্যবহার করবে। এর মধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পেয়েছে সর্বোচ্চ ৪৬ কোটি টাকা। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি, এলজিইডি ৭২ কোটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এরই মধ্যে চারটি মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় পেয়েছে, বাকি দুটি মন্ত্রণালয় অনুমোদন শেষে অর্থ গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনসংযোগ শাখা গণভোটের প্রচারণায় ব্যয় করছে আরও ৪ কোটি টাকা।
ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে নির্বাচনি ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়েছে।
ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রথম দফায় সংসদ নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে অতিরিক্ত বাজেট চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরও ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গণভোটের জন্য ব্যালট পেপার, জনবল, যাতায়াত ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রীতে ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু প্রচার-প্রচারণা নির্বাচন কমিশন নিজেই পরিচালনা করছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এনওসির ভিত্তিতে এলজিইডি, সংস্কৃতি, ধর্ম, তথ্য, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে কমিশনের বরাদ্দ থেকে অর্থ নিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, গণভোট নিয়ে সরাসরি জনসম্পৃক্ত প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না। টেলিভিশন ও রেডিও প্রচার, লিফলেট বিতরণ এবং সরকারি দপ্তর ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন অফিসে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যানার প্রদর্শনেই প্রচার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্র জানায়, গণভোটের প্রচারের জন্য সিসি ক্যামেরা, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরির কাজ কিছু উপদেষ্টার সুপারিশে তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া হয়েছে।