সংসদকে যুক্তি, তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদকে যুক্তি, তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে হতে হবে গণতন্ত্র চর্চা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রধান প্ল্যাটফর্ম।

বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ভাষণে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদেরৃ নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক ও সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর অশেষ রহমতে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন পথচলা শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সূচনালগ্নে তিনি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এ সময় তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সন্তান বা স্বজন হারানো পরিবার, আহত ও নির্যাতিত মানুষদের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গুম, খুন, নির্যাতন, রাজনৈতিক হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার মধ্যেও দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসেননি। তাঁদের সাহসী ভূমিকার ফলেই দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা উপলক্ষে স্বাধীনতাপ্রিয় ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করেছেন এবং কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি বেগম খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী সেই নেত্রীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—“জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি।” অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তিনি বলেন, তাঁর রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর হলে দেশও স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি জনগণের সমর্থন এবং সংসদের সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার জাতীয় সংসদকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বদলে অকার্যকর করে ফেলেছিল।

অধিবেশন শুরুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জনরোষের কারণে তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, সংসদীয় ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তাঁর সভাপতিত্বেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970