৯ ডিগ্রিতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ এএম
কুড়িগ্রামে দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতভর শিশির ঝরছে বৃষ্টির মতো, ভোর থেকে চারপাশ ঢেকে থাকছে কুয়াশার চাদরে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতি আরও তীব্র করে তুলেছে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আগামী কয়েক দিন কুড়িগ্রামসহ উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে।
১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলার আয়তন প্রায় সাড়ে আটশ বর্গকিলোমিটার। জেলার ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস, যাদের বড় অংশই চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করেন।
অধিকাংশ চর শীতপ্রবণ হওয়ায় হিমেল বাতাসে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন চরবাসীরা। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, ভূরুঙ্গামারী, চিলমারী, রৌমারী, চর রাজিবপুর ও নাগেশ্বরী উপজেলার চরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালীর আলগা চরের ইউপি সদস্য হোসেন আলী বলেন, তার চরে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী কোবাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, পরার মতো মোটা কাপড় নেই। রাতে ঘুমাতে গেলে ঠান্ডায় শরীর জমে যায়।’ একই চরের গৃহবধূ মমিনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘শীতের কাপড় পাই না, কেউ আমাদের খোঁজও নেয় না।’
শীতের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ, শিশু ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। অনেক জায়গায় কাজ বন্ধ থাকায় দিনমজুরদের আয় কমে গেছে, ফলে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতিদিনই শীতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।