দুই নেতার বিরোধে রাউজানে বিএনপির ৯ কর্মী খুন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতা থামছেই না। গত ১৬ মাসে এই উপজেলায় খুন হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ৮ জন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী ১ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই দুই নেতার বিরোধকে কেন্দ্র করেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাউজানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক সহিংস ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৪ জন এবং বিএনপি ও যুবদলের ৯ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং মাটি-বালুর ব্যবসা নিয়েই মূলত এসব সংঘর্ষ হচ্ছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র।
সর্বশেষ গত সোমবার রাউজানে গুলিতে নিহত হন মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৮)। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জানে আলম বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এ ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, দলের প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে জানে আলমকে হত্যা করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারকে কেন্দ্র করে রাউজানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দুজনই বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন এবং তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ কার হাতে যাবে—তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আরও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জানে আলম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে রাউজানে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যমতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ৯৪৫টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১৬৫টি উদ্ধার হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব অস্ত্র নির্বাচনের সময় সহিংসতায় ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।