চট্টগ্রামে কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে পুলিশ পাহারায় থাকা ব‍্যবসায়ীর বাসায় গুলি

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশ পাহারায় থাকা এক ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে আবারও গুলি চালিয়েছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান–এর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী–এর অনুসারীরাই এ হামলা চালিয়েছে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। সেসময় জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকে বাসাটিতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়। তবে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই ফের গুলির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন সাজ্জাদ আলী। প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় ২ জানুয়ারি গুলি করা হয়। এরপরও প্রায় ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে লেখা ছিল ‘অপেক্ষা করো’।

শনিবার সকালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। নিরাপত্তারক্ষী বিষয়টি পুলিশ সদস্যদের জানালে তারা প্রস্তুতি নেন, তবে এর আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের হাতে পিস্তল, স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ আধুনিক অস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন মুখোশধারী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাসার সামনে এসে গুলি ছুড়ছে। পুলিশ জানায়, একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। অন্যদের কাছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও শটগান ছিল।

খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া–এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি জানান, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে সন্ত্রাসীরা এলাকায় আসে। গাড়ি দূরে রেখে হেঁটে গিয়ে গুলি চালিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে সরে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বড় সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ আলীর নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুখোশ পরায় হামলাকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। তবে সাজ্জাদের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান ও বোরহান জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অভিযোগের বিষয়ে সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি গুলির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

কে এই সাজ্জাদ?

নগরের চালিতাতলী এলাকার ঠিকাদার আবদুল গণির ছেলে সাজ্জাদ আলী ১৯৯৯ সালে কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খান হত্যা মামলার পর আলোচনায় আসেন। সাক্ষীর অভাবে খালাস পেলেও নগরের অপরাধজগতে তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে।

২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে আটজন হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একই বছরের অক্টোবরে একে–৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান এবং ২০০৪ সালে দেশ ছাড়েন। এরপর বিদেশে বসেই তার বাহিনী পরিচালনা করে আসছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি।

পুলিশ জানায়, চাঁদা আদায়, আধিপত্য বিস্তার ও ভাড়াটে খুনসহ নানা অপরাধে জড়িত তাঁর বাহিনী। নগরের একাধিক থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে এই চক্র। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন সক্রিয় শুটার রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970