সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রোগীদের সাধারণ খাবার খেলেন নওগাঁ-২ আসনের এমপি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সাধারণ রোগীদের জন্য দেওয়া খাবার খাওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নওগাঁ-২ (ধামইরহাট–পত্নীতলা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার সরকার জানান, গত সোমবার সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে এমপি এনামুল হক হঠাৎ করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। সে সময় তিনি গ্যাস্ট্রিক ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি সেখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি সাধারণ রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারই গ্রহণ করেন এবং দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিষয়টি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের কাছেও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা দেয়।
ডা. আশীষ কুমার সরকার বলেন, “তিনি সরকারি হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নিয়েছেন—এটাই বড় বিষয়। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়বে।”
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক বলেন, চাইলে তিনি জয়পুরহাট বা নওগাঁর বড় হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন। তবে এলাকার মানুষ যেখানে নিয়মিত চিকিৎসা নেন, সেখানেই চিকিৎসা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকলেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিক হলে ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।
এদিকে হাসপাতালে বেডে বসে সাধারণ খাবার খাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তাঁর এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসলিমা পারভীন নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, দেশের বড় কোনো হাসপাতালে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া এবং সাধারণ রোগীদের মতো খাবার খাওয়ার ঘটনা সত্যিই ব্যতিক্রমী।
অন্যদিকে মাসুদ রানা নামের আরেকজন মন্তব্য করেন, একজন সংসদ সদস্য উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া এবং সাধারণ রোগীদের খাবার খাওয়া আমাদের দেশে প্রায় কল্পনার মতো বিষয়। তাঁর এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন পদক্ষেপ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।