টানা বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে স্থবির দুই উপজেলা, দুর্ভোগে জনজীবন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজীবপুর উপজেলায় টানা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল অপারেটরগুলোর সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পুরো এলাকা প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও একটি-দুটি সিমের নেটওয়ার্ক মিললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মোবাইল সংযোগ একেবারেই নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল মিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার অনিয়মিতভাবে। এতে কার্যত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অল্প ব্যবহার করলেও মাস শেষে বেশি বিল দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে গত ১৫ দিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দিতে না পারায় সড়কে যানবাহন সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে অল্পসংখ্যক যানবাহন চললেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক স্বাধীন মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছেন না তিনি। এতে তার মতো দিনমজুরদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। অল্প কিছু যানবাহন থাকলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি।
রৌমারীর চরশৌলমারী বাজারের এক ব্যাংকিং এজেন্ট শহিদুল ইসলাম জানান, টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও বেতার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যাংকিং লেনদেন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই তীব্র লোডশেডিং চলছিল। শনিবার থেকে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে সংবাদ আদান-প্রদানেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেল পাম্প বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাফিউর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চর রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
টানা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে এই দুই উপজেলায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।