কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা ও পীর হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৮ এএম
কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পীর হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে শাহবাগে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর হামলা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্ণয় ইসলাম এবং সারাদেশে চলমান মব সহিংসতার ঘটনাও প্রতিবাদে উঠে আসে।
শনিবার রাত ৯টার দিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার পায়রা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গোলাম-এ-বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সেখানে দরবারের পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৭০) নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানান।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা, পীর হত্যা, শাহবাগে হামলা এবং সারাদেশে মব সহিংসতায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক দুঃশাসনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমাল্লার বসু বলেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং জঙ্গিবাদ ও মব সন্ত্রাস কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। রাষ্ট্রকে কঠোরভাবে এসব দমন করতে হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহাম্মেদ জুবেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে মব সহিংসতা বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।