শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে সাইবার হামলা, ২৫ লক্ষ ডলার লোপাট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। অস্ট্রেলিয়ার একটি দ্বিপাক্ষিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধের কথা ছিল। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী অর্থ পাঠানো হলেও তা নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে পৌঁছায়নি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এবং তদন্তে অর্থ চুরির ঘটনা নিশ্চিত হয়।
কলম্বোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হর্ষণা সুরিয়াপেরুমা জানান, শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত সময়েই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছিল। কিন্তু মাঝপথে সাইবার অপরাধীরা হস্তক্ষেপ করে অর্থ অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হ্যাকাররা সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ইমেইল আদান-প্রদান ব্যবস্থায় কারচুপি করেছে। তারা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা পরিবর্তন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন হিসাবে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ফলে কাগজে-কলমে অর্থ পরিশোধ দেখালেও বাস্তবে তা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তহবিলে পৌঁছায়নি।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি তাদের অবহেলার ফল নাকি হ্যাকারদের সঙ্গে কোনো যোগসাজশ ছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে শ্রীলঙ্কা সরকার বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা চেয়েছে।
শ্রীলঙ্কার উপ-অর্থমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো জানিয়েছেন, ভারতের একটি ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়ও একই ধরনের জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছিল। তবে তখন ব্যাংক হিসাবের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়েও কাজ করছে বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় থাকা শ্রীলঙ্কার জন্য এই ঘটনা বড় ধরনের ধাক্কা। ২০২২ সালের তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের পর দেশটি যখন অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তখন এমন সাইবার হামলা তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।