ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের ছেলে মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি দুইটি ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ওসলো জেলা আদালত তার বিরুদ্ধে আনা চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছেন।

তিন বিচারকের বেঞ্চের দেওয়া রায়ে বাকি দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হলেও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সব মিলিয়ে ৪০টি অভিযোগের মধ্যে ৩৪টিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় ২৯ বছর বয়সী মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীরা জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, ধর্ষণের পাশাপাশি নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং মাদক-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

যদিও মামলাটি সরাসরি নরওয়ের রাজপরিবারকে জড়ায়নি, তবুও এটি দেশটির রাজপরিবারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি ২০০১ সালে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সঙ্গে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এবং কোনো রাজকীয় দায়িত্বও পালন করেন না।

রায় ঘোষণার পর তার আইনজীবীরা অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিতে মুক্তির আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া সমীচীন হবে না।

মামলায় মোট ছয়জন নারী জড়িত ছিলেন। আদালত দুইজনের অভিযোগে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও বাকি ঘটনাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাগুম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে ওসলোতে পৃথক দুই ঘটনায় দুই নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও সহিংস আচরণেরও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। যে দুই অভিযোগ খারিজ হয়েছে, তার একটি ওসলোর একটি হোটেলে এবং অন্যটি লোফোটেন দ্বীপে ভ্রমণের সময় সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

আদালত আরও জানান, অনেক ভুক্তভোগী ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে মারিয়াস বর্গ হোয়াইবির মোবাইল ফোনে পাওয়া ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর তথ্য সামনে আসে।

এদিকে নরওয়ের এক অপরাধবিষয়ক বিশেষজ্ঞের মতে, দেশটিতে ধর্ষণ মামলার প্রমাণের মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক অভিযোগ আদালতে টিকতে পারে না, যা বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970