আকাশে বিশাল উল্কাপিণ্ড দেখে সবাই ভেবেছিল ‘প্লেনে আগুন লেগেছে’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের আকাশে দুটি বিশাল উল্কাপিণ্ডের দেখা মিলেছে। বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ছড়িয়েছে, তেমনি প্রচণ্ড শব্দ ও অগ্নিগোলকের দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১০টা ২০ মিনিটের কিছু পর দেশটির উত্তর দ্বীপের আকাশে একটি বিশাল অগ্নিগোলক ছুটে যেতে দেখা যায়। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দ্বীপের আকাশেও একই ধরনের একটি উল্কাপিণ্ড দেখা গিয়েছিল।
ঘটনাগুলোর ভিডিও স্থানীয়দের গাড়ির ড্যাশক্যাম, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা এবং বিশেষ উল্কাপিণ্ড পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে সৃষ্ট বিকট শব্দে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন কোনো উড়োজাহাজে আগুন লেগেছে। আরেকজনের ভাষ্য, কমলা রঙের অগ্নিগোলকটির পেছনে বেগুনি রঙের একটি লেজ ছিল এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, বিকট শব্দে আশপাশের পাখিরা উড়ে যায় এবং গবাদিপশুও আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে।
মহাকাশ গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ফায়ারবলস আওতারোয়া’র পরিচালক স্টিভ উইন-হ্যারিস জানান, তিনিও উল্কাপিণ্ডটি দেখেছিলেন। তবে শুরুতে তিনি এটিকে সাধারণ বজ্রপাত বলে মনে করেছিলেন। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে এটি একটি উল্কাপিণ্ড। তিনি বলেন, উল্কাপিণ্ড পতনের সময় সৃষ্ট সনিক বুম থেকে ধারণা করা যায়, এটি ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।
এ ঘটনার পর সংস্থাটির গবেষকরা উত্তর দ্বীপের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উল্কাপিণ্ডের টুকরো খুঁজে পেতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫০ বছরে নিউজিল্যান্ডে মাত্র ১০টি নিশ্চিত উল্কাপিণ্ডের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দেশটির বিস্তীর্ণ জনবিরল এলাকা এবং দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে এমন বস্তু খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিজ্ঞানীদের আশা, বর্তমানে দেশজুড়ে স্থাপিত প্রায় ২০০টি বিশেষ উল্কাপিণ্ড পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত নিরাপত্তা ক্যামেরা ও ড্যাশক্যামের সংখ্যা বাড়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের উল্কাপিণ্ড শনাক্ত ও এর অবশিষ্টাংশ উদ্ধার আরও সহজ হবে।