আলিফের চোখের অস্ত্রোপচার সফল, তবুও দৃষ্টিশক্তি ফেরার আশা নেই: চিকিৎসক
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গুরুতর ক্ষতির কারণে ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সামিয়া নুজহাত জানান, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলিফের জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস, অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে। অপারেশন-পরবর্তী স্বাভাবিক ব্যথা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আহত ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইট বা পাথরের মতো কোনো শক্ত বস্তুর আঘাতে চোখের গোলক ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে চোখের ওপরের ও নিচের পাতা এবং চোখের পানি নাকে যাওয়ার নালীও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গোলক, চোখের পাতা ও ক্ষতিগ্রস্ত নালী মেরামত করা হয়েছে। তবে এত গুরুতর আঘাতের পর চোখের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।
ডা. সামিয়া নুজহাত বলেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত কতটা ভালোভাবে সারে, তার ওপর পরবর্তী অবস্থা নির্ভর করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্ত চোখে আগের মতো দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তিনি আরও জানান, আলিফের চোখের সামনের অংশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গঠনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তি হারানোর প্রধান কারণ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ বলেন, সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষার সময়ই চিকিৎসকেরা আক্রান্ত চোখে ‘নো পারসেপশন অব লাইট’ বা আলো অনুভব করার ক্ষমতা না থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। সে সময়ই দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংক্রমণ যাতে অন্য চোখ বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে না পড়ে, চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করা এবং চোখটি যাতে সম্পূর্ণভাবে বসে না যায়, তা নিশ্চিত করা।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আলিফের অপর চোখের দৃষ্টিশক্তি বর্তমানে ৬/৯, যেখানে স্বাভাবিক মান ৬/৬। আঘাতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, সিটি স্ক্যানে আক্রান্ত চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা এবং রেটিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন আংশিকভাবে ঠিক করা গেলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এমনকি বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নেওয়া হলেও ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য এনসিপি ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরবর্তীতে শহরে প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে আরও এক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলিফ দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে একজন। তার বাবা অসুস্থ এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।