২০৪ জাতের আঙুর চাষে চমক, রাজবাড়ীর তরুণ ফারদিনের বাগানে সাফল্য
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
প্রচলিত ধারণা ভেঙে রাজবাড়ীর তরুণ রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ার ফারদিন আহমেদ দেড় বিঘা জমিতে ২০৪ জাতের আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়েছে, যা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
আধুনিক পদ্ধতিতে মাচা তৈরি করে আঙুর চাষ করছেন ফারদিন। তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়াতেও আঙুর চাষ সম্ভব এবং লাভজনক। আঙুর উৎপাদনের পাশাপাশি তিনি আগ্রহী কৃষকদের জন্য চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছেন।
ফারদিনের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কুঠি পাঁচুরিয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে বাড়ির পাশে গড়ে তোলেন “গ্রেপ ইঞ্জিনিয়ারিং এগ্রো অ্যান্ড রিসার্চ” নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
২০২০ সালে করোনার সময় তার কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। শখের বসে বাড়ির উঠানে একটি আঙুর গাছ লাগান। সেই গাছে ফলন এলেও তা খাওয়ার উপযোগী ছিল না। তবে তিনি হাল না ছেড়ে আঙুর চাষ নিয়ে আরও গবেষণা শুরু করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আঙুর বাগান শুরু করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দেশ থেকে ২০৪ জাতের প্রায় ৫০০টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করে তিনি বাগান গড়ে তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, ইউক্রেন, জাপান, ইতালি, চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জাত।
বর্তমানে তিনি আরও সাড়ে চার বিঘা জমিতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। পাশাপাশি চারা বিক্রিও করছেন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। তার আশা, প্রতি বিঘা জমি থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হবে। ভবিষ্যতে তিনি এই বাগানকে কেন্দ্র করে একটি রিসোর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছেন।
ফারদিন বলেন, তিনি মূলত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী হলেও কৃষিতে আগ্রহ থেকে আঙুর চাষ শুরু করেন। ইউটিউব দেখে তিনি আঙুর চাষের কৌশল শিখেছেন। এখন পর্যন্ত তার প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে প্রথম বছরেই ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, শুরুতে অনেকেই তার এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ করলেও এখন তারা গর্ব অনুভব করছেন। বাগানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি জাতের আঙুর দেশের মাটিতে সফলভাবে চাষ হওয়া ইতিবাচক দিক। ভবিষ্যতে এই উদ্যোক্তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।