লক্ষ্মীপুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ডে তিন মেয়েসহ তাদের মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবকও নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম।

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। অপরদিকে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার বাসিন্দা এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহীনুর বেগমের পরিবার মূলত কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। কয়েক বছর ধরে তিনি সন্তানদের নিয়ে আমির হোসেন মাস্টারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায় ইকরা আক্তার।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহীনুর বেগমের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, ঘটনার সময় সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের হত্যার খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, অন্তর মজুমদার তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তিনি ওই বাসায় এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার আগে এক প্রতিবেশী অন্তরকে বাসার সামনে দেখে সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি পানির পাইপ মেরামত করতে এসেছেন বলে জানান। তবে সন্দেহ হওয়ায় ওই প্রতিবেশী স্থানীয়দের খবর দেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে হাসপাতালে মারা যান। আরেক মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর পথেই তার মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিও গণপিটুনিতে আহত হয়ে পরে মারা যান।

অন্যদিকে রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970