ঘুমধুম সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণ, যুবকের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকায় আবারও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক কৃষিশ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর নতুন এ দুর্ঘটনায় সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভালুকিয়া এলাকার একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ৩৪ বিজিবির হাতুরানী বিওপির দায়িত্বাধীন এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৪১ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করছিলেন মো. শফি আলম (৩০)। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত শফি আলম নাইক্ষ্যংছড়ির রেজুয়ামতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হালু মিয়ার ছেলে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। বিশেষ করে কৃষিকাজ, বাগান পরিচর্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় তারা অজানা বিপদের আশঙ্কায় থাকেন।
এর আগে গত ২৪ মে একই এলাকার কাছাকাছি স্থানে পরপর দুটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিনজন স্থানীয় আদিবাসীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সতর্কবার্তাসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলম বলেন, ঘুমধুমের ভালুকিয়া এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের উৎস, ব্যবহৃত মাইনের ধরন এবং কীভাবে সেটি ওই এলাকায় পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।