১৭ বছর পর দেশ একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের কার্যকর জাতীয় সংসদ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে দেশের মানুষ একটি প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর সংসদের প্রত্যাশা করে এসেছে। এবারের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জাতীয় সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ অতীতের সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কিছু সংসদের কার্যক্রম নিয়ে তার মধ্যে হতাশা রয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে একটি এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে অন্য কাউকে সংসদে দেখা গেছে। নানা অনিয়ম ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে অনেকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শুভ ছিল না।
স্পিকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নানা অসঙ্গতি থাকলেও এবার একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদ গঠিত হয়েছে। তিনি বর্তমান সংসদকে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদের সঙ্গে তুলনা করে এটিকে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে এমন অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যাদের বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না। নিজেদের যোগ্যতা ও জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই তারা বিজয়ী হয়েছেন।
ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে স্পিকার বলেন, এবারের ভোটের ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে জনগণ পরিবর্তন চায়। অতীতে অনেক সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডে মানুষ সন্তুষ্ট ছিল না। তাই তারা একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর সংসদ দেখতে চেয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ তাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা রক্ষা করতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সংসদকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সংসদ সচিবালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথোর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।