নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটির ৫ বড় সিদ্ধান্ত
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:১০ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ লক্ষ্যে সচিব কমিটির বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্ধিত বেতন হাতে পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগলেও ১ জুলাই থেকেই এটি কার্যকর বলে গণ্য হবে। পরে কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ অ্যারিয়ার হিসেবে পরিশোধ করা হবে।
বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পূর্বের তিন ধাপের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয় সরকার।
সচিব কমিটির আলোচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি পৃথক রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে তা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর কোনো ধরনের আইনি বা প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেতন নির্ধারণ ও ফিক্সেশন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুতই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে।