কুবিতে বিজয় দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ নিয়ে উত্তেজনা, ছাত্রদল-শিক্ষার্থীদের দুই দফা বাকবিতণ্ডা
মো. রাবসান সরদার, কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই দফায় বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভাগগুলোর পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে নিবন্ধিত ছাত্রসংগঠনগুলোর নাম ঘোষণার কথা থাকলেও অনিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে কুবি শাখা ছাত্রদলের নাম প্রথমে ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানান এবং উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চান।
এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তারা ‘রাজাকার’, ‘আওয়ামী দোসর’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ প্রশাসনের উপস্থিতি দাবি করেন। পরে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ কমিটির পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়।
এর মধ্যেই ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভর নেতৃত্বে আবারও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। তারা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ তোলেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ঘোষণা ও নিবন্ধিত সংগঠনগুলোর সিরিয়াল ভাঙা অশোভনীয়। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। কয়েকটি সংগঠন প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, বিজয় দিবসে ফুল দেওয়ার অধিকার সবার আছে এবং তাদের ফুল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি।
বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়করা ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানান, নাম ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, বিভাগ ও নিবন্ধিত সংগঠনগুলোর পর অনিবন্ধিত সংগঠনের ফুল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল, তবে পুরো ঘটনাটি কমিটির সঙ্গে বসে পর্যালোচনা করা হবে।