দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নামে মিল, সংসদে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় নতুন দুটি ইউনিয়নের নাম তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদে ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই।

এর আগে সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই নামকরণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ি’ করা হয়েছে পারিবারিক প্রভাবের কারণে। পাশাপাশি তার দুই সন্তান মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে আরও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী যেখানে পরিবারকেন্দ্রিক নামকরণ অনুমোদন করেন না, সেখানে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ।

এর জবাবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নবগঠিত মোকামতলা ইউনিয়নটি প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিভক্ত করা হয়েছে এবং জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নামকরণ সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত’, আর দূরবর্তী ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আরেকটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত’। এখানে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেউলী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করা হয়নি, বরং সেটি ভেঙে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার সন্তানদের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নামের মিল থাকলেও এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়।

তিনি সংসদে আরও বলেন, তার সন্তানদের নামও মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত, তবে ইউনিয়নের নামের আগে ‘মীর’ শব্দ যুক্ত নেই। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকলে নামের সঙ্গে আরও মিল রাখা যেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনার সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার উদাহরণ টেনে বলেন, দেশে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে বহু প্রতিষ্ঠান ও এলাকা রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে এই নামকরণের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বক্তব্যের একটি অংশে রসিকতার সুরেও মন্তব্য করেন। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, সীমান্ত বা দিগন্ত নাম থাকলেই তা ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যুক্ত করা সঠিক নয়।

বক্তব্য শেষে তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সংশ্লিষ্ট অংশ বাদ দেওয়া হোক।

স্পিকার জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্য নথিভুক্ত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অসংসদীয় অংশ থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970