দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে দুদক
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের একাধিক আদেশের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়।
দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এক নথিতে জানানো হয়েছে, জব্দ করা সম্পদের মোট মূল্য ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ২০টি আদেশে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮৯১ একর জমি, ১৪টি বহুতল ভবন এবং ২৮টি ফ্ল্যাট। এছাড়া ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনসেড ঘর, একটি খেলার মাঠ, একটি বিদ্যালয় এবং দুটি দোকানও জব্দ করা হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ছয়টি বিলাসবহুল গাড়ি। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব গাড়ির বাজারমূল্য বেশি হলেও প্রদত্ত মূল্যের ভিত্তিতে এর পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ টাকা। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পদ সরকারের জিম্মায় থাকবে এবং মালিকরা এগুলো ব্যবহার বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।
এছাড়া আর্থিক খাতে বড় ধরনের অবরোধ আরোপ করেছে দুদক। আদালতের ১৫টি আদেশে মোট ১৪৪টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে জমা রয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, স্থায়ী আমানত, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বীমা নীতিমালাও এই অবরোধের আওতায় এসেছে।
বিশেষ এই অভিযানে একাধিক ঋণ কার্ড, স্বল্পমেয়াদি আমানত হিসাব এবং একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুর্নীতির অর্থ ডিজিটাল মাধ্যমে পাচার বা গোপন করার প্রবণতা ঠেকাতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতির অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।