জানা গেল গর্তে পড়া শিশু সাজিদের মৃত্যুর কারণ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১২ এএম
রাজশাহীর তানোরে নলকূপের জন্য খনন করা একটি পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদ আর বেঁচে নেই। দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বার্নাবাস হাসদা জানান, “শিশুটি হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা এবং অক্সিজেনের অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
শিশুর নানা আইয়ূব আলী বলেন, “উদ্ধারের সময় সে বেঁচে ছিল। ফায়ার সার্ভিসও বলছিল সে জীবিত। আমি নিজ চোখে দেখেছি। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর মারা গেল।” পরে মরদেহ বাড়ি তানোর কুড়িরহাট পূর্বপাড়ায় নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, এক ব্যক্তি গত বছর এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। প্রায় ১২০ ফুট খননের পরও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। মুখ খোলা অবস্থায় গর্তটি বছরের পর বছর পড়ে থাকায় এবং কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। গর্তের পাশেই নির্ঘুম রাত কাটান সাজিদের মা—সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় কান্না ও প্রার্থনায় ভেঙে পড়েন তিনি। শুরুতে গর্তের ভেতর থেকে কিছু শব্দ পাওয়া গেলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকর্মীদের আরো উদ্বিগ্ন করে তোলে। পুরো সময় ফায়ার সার্ভিস অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখে এবং মেডিকেল টিমসহ স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলেই অবস্থান করে।
এর আগে সন্ধ্যায় লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, শিশুটি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম; তবে জীবিত বা মৃত—যে অবস্থাতেই হোক, তাকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।