৬ নারীর সঙ্গে পর্ন ভিডিও করেন বিসিএস কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, যেভাবে ফাঁস হলো
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এক নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওএসডি করা হয়। এর আগে সোমবার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আলাউদ্দিন দাবি করেছিলেন, কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাধিক ভিডিওতে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তাকে ব্যক্তিগত অবস্থায় দেখা গেছে। এসব ভিডিও যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি নয় বরং বাস্তব।
আরও জানা যায়, ভিডিওগুলো গোপনে ধারণ করা হয়নি; বরং পরিকল্পিতভাবেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন নামে ভিডিও ফাইল সংরক্ষণের বিষয়টি থেকেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের অবস্থান, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য কোনো চাপ বা প্রতারণার বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সুনামগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় এসব ভিডিও ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। একটি ভিডিও সরকারি ডাকবাংলোর একটি কক্ষে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি উঠলেও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি ক্যামেরা থেকে ভিডিওগুলো ফাঁস হতে পারে। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে একটি আংশিক ভিডিও প্রকাশের পর ধীরে ধীরে আরও ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আলাউদ্দিন কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে ছুটির আবেদন করেন এবং পরে আত্মগোপনে চলে যান। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ভিডিওর সত্যতা পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।