ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ফিরতে মরিয়া আওয়ামী লীগ নেতা, সংঘর্ষে আহত ৫০
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মিলিয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি কারামুক্ত হওয়ার পর ফরিদ আহমেদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ফেরার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হাইকোর্টের আদেশে তিনি চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল হলেও দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন ফরিদ আহমেদ। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এতে আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষকে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস শেল নিক্ষেপ করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।